খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের ইন্তেকাল

খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের ইন্তেকাল

আমারদেশ প্রতিদিন ডেস্ক: খ্যাতিমান আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আজ সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। গত শনিবার তিনি কিছুটা সুস্থবোধ করলে সকালের দিকে রিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরে যান। কিন্তু দুপুরের পরপরই ফের তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। রক্তশূন্যতা, ইউরিন সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই আইনজীবী।
রফিক-উল হক বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর তাকে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও অবস্থার খুব উন্নতি হচ্ছিল না। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রফিক-উল হক দীর্ঘদিন বাসাতেই ছিলেন।
সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল। এ কারণে দুই নেত্রীর আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন তিনি।
বিচারপ্রার্থীদের জন্য আইন অঙ্গনে যেমন তিনি লড়েছেন, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছিল তার বিচরণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে তার কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। মাঝে জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সঙ্গেও কাজ করেছেন এ আইনজীবী।
দুই নেত্রীকে সংলাপে বসাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন জ্যেষ্ঠ এ আইনজ্ঞ।
হাসপাতালসহ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করেছেন তার সব অর্থ। বিনা পয়সায় দায়িত্ব পালন করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালে কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন রফিক-উল। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার এট ল’ সম্পন্ন করেন তিনি।
১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টে এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন বিশিষ্ট এ নাগরিক।
১৯৯০ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে ১৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রফিক-উল হক।
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও ব্রিটেনের নাগরিক হয়েছিলেন তিনি।
সাবেক চার প্রধান বিচারপতি তার অধীনে চেম্বারে কাজ করেছেন।
সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারও তার সঙ্গে কাজ করেছেন।
বিনা পয়সায় অনেকে মামলা লড়ে আলোচিত হয়েছিলেন রফিক-উল হক।
স্পষ্ট ও সাবলীল আইনি যুক্তিতর্কের জন্য তার বিশেষ পরিচিতি ছিল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Design BY Soft-Mack