গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন হবে: মেজর হাফিজ

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন হবে: মেজর হাফিজ

আমারদেশ প্রতিদিন ডেস্ক: বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ভোটে নয়, রাজপথে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। জনগণের যেহেতু ভোটের মাধ্যমে আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। যত দিন এই সরকার আছে ততদিন ভোট কেন্দ্রে সাধারণ নাগরিক যেতে পারবে না। সুতরাং একমাত্র উপায় গণঅভ্যুত্থান।

‘জনগন যদি রাস্তায় নেমে আসে। ওই যে আমি বলেছি, দুই লাখ লোক দুইদিন রাস্তায় থাকেন পালিয়ে যাবে তারা(আওয়ামী লীগ সরকার)। সেই সাহস সঞ্চয় করে আসুন আমরা আগামী দিনে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে রাজপথে আবার নেমে আসি।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।

তিনি চলমান ব্যবস্থায় দলের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কেন আমরা এই ধরনের নির্বাচনে যাই? যখন নির্বাচনে যাওয়া উচিত না তখন যাই, যখন যাওয়া উচিত তখন যাই না। যে দিন সংসদে যাওয়া উচিত না সেই সংসদে গিয়ে আমরা বসে থাকি।

‘বিএনপির এজেন্টই তো হাজারের বেশি। আমাদের কোনো এজেন্ট ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন না, কোনো ভোটার ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে না এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে না-এই হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র।’

সাবেক এই সেনাকর্মকর্তা বলেন, ‘যদি আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী হয়ে থাকি তাহলে আমাদের দলেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। জিয়াউর রহমানের মতো সৎ হতে হবে, তার মতো সাহসী হতে হবে।’

‘বেগম খালেদা জিয়া আপোষ করেননি। কিন্তু আমরা অনেকে আপোষ করে বসে আছি। আজকে দূঃখের বিষয় খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী বছরের পর বছর জেলে কাটালেন আমরা কী করতে পেরেছি?।’

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুঃখ লাগে এই সামরিক বাহিনী আমরা সৃষ্টি করেছি। নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী যেখানে যেতো দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতো। আর এ্খন। গত নির্বাচনের আগের রাতে সব ভোট দিয়ে ফেললো আর সেনা প্রধান বললেন, এতো ভালো ভোট আমি জীবনে দেখিনি। সুতরাং আমাদের যে শেষ ভরসার স্থল সেটিও চিন্তাভাবনার বিষয় তাদের অবস্থান কী? অত্যন্ত দুঃখ লাগে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাক, এই সেনাবাহিনীর জন্য কষ্ট লাগে- আমরা এই সেনা বাহিনী সৃষ্টি করেছি একাত্তর সালে। ২৫ জন সেনা কর্মকর্তারা পাকিস্তান আর্মিতে আমরা যারা ছিলাম আমরা বিদ্রোহ করে মুক্তিবাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনা বাহিনী গড়ে তুলেছি। গত ৫/৭ বছরে এরা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীকে রাজনীতি মুক্ত চাই। সেনাবাহিনী যেন বাংলাদেশের কোনো দলের সেনাবাহিনী নয়, জনগনের সেনাবাহিনী হয়-এটাই আমরা আশা করি।’

সংগঠনের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন,প্রফেসর শাহ আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা একেএম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, আওয়ামীলীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। অনেকে মনে করেন বিএনপি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, এটা সঠিক নয়। বিএনপি এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল।দিন দিন আওয়ামী লীগের জনসমর্থন কমছে আর বিএনপির বাড়ছে। দেশের নব্বই ভাগ মানুষ বিএনপির সাথে আছে। আওয়ামী লীগ একবার ক্ষমতাচ্যূত হলে আর জীবনে আর ক্ষমতার মুখ দেখবে না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বিএনপির সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন,পুরনো ব্যবস্থাকে দুমড়ে মুছড়ে নতুন রাজনৈতিক সমাজ গড়ার উদ্যোগই হল বিপ্লব।সাত নভেম্বর তেমনি একটি বিপ্লব। ৭নভেম্বরের পরের বাংলাদেশ তার আগের বাংলাদেশ থেকে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। এ স্বাতন্ত্র্য সুন্দর ও মজবুত হয় অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে। সুন্দর হয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। ৭ নভেম্বরের আগের বাংলাদেশে বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক একদলীয় বাকশালের ঘন কুয়াশা ৭ নভেম্বরের পরের বাংলাদেশে কেটে গেছে। বহদলীয় গণতন্ত্রের অনুসারী দলগুলো ক্রমেই বিকশিত হতে শুরু করেছে। সংবাদপত্রের মুখে নতুনভাবে কথা ফুটেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Design BY Soft-Mack