প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: ফারুকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও দূর্নীতির অভিযোগ।

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: ফারুকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও দূর্নীতির অভিযোগ।

আমারদেশ প্রতিদিন ডেস্কঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কর্মরত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) উপজেলা লাইভস্টোক অফিসার ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন নারী সহ অপ্রীতিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়।
৭ জুলাই উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের “তথ্য আপা” প্রকল্পের কর্মকর্তা তসলিমা আক্তারের সঙ্গে অপ্রীতিকর অবস্থায় উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের “তথ্য কেন্দ্র” ভবনে ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন কে স্থানীয় জনতা আটক করে একই ভবনে তালা বদ্ধ করে রাখে । পরবর্তীতে এ ঘটনায় স্থানীয় প্যানেল মেয়র মান্নান ঘটনা স্থল থেকে ডাঃ ফারুককে উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
এমন একটি অভিযোগ জমা হয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডাঃ মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন এর দপ্তরে। জেলা থেকে অধিদপ্তর হয়ে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌছায় ডাঃ ফারুক হোসেন এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ। এ ঘটনায় ১৩ জুলাই বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ( ডিডি) ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডাঃ মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন সহ একটি দল বিভাগীয় তদন্তের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলার মতলব উত্তর উপজেলার প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কর্মরত ৭ কর্মকর্তা – কর্মচারীর স্বাক্ষরীত লিখিত অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয়, মহিলা অধিদপ্তরের “তথ্য আপা” প্রকল্পের কর্মকর্তা তসলিমা আক্তার এর সঙ্গে ইউএলও ডাঃ মোঃফারুক হোসেন এর ২ বছরের দীর্ঘ সময়ের অনৈকিত সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ ২ বছরে তারা দুজনই দুজনের অফিসে আসা যাওয়া করতো । অফিস চলাকালীন সময়ের শেষ প্রহরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে তসলিমা আক্তার এসে ডাঃ ফারুকের সঙ্গে খোশ গল্পে মগ্ন থাকতেন। অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয় , অফিস সময়ের শেষের দিকে তেমন কোন লোক সংখ্যা না থাকার সুযোগে তারা দুজনই অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়তেন।
এ সকল ঘটনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ওয়ালী উল্ল্যাহ সরকার ও কমপাউন্ডার পলাশ কুমার দাস। এমন সতর্কবার্তার কথাও উল্ল্যেখ করা হয় অভিযোগ পত্রে।
অফিস কর্মীদের সতর্কবার্তা থাকার পরেও গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত “তথ্য আপা” কার্যালয়ে তসলিমা আক্তারের সঙ্গে বিশেষ মূহুর্ত উপভোগ করার সময় মধ্যে খানে হাজির হন উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপার ভাইজার শরিফুল ইসলাম। বাইরে থেকে কার্যালয়টি তালা বদ্ধ থাকায় শরিফুল ফোন করেন তসলিমা আক্তারকে । তিনি প্রথম ফোনটি রিসিভ না করলেও দ্বিতীয়বার ফোন রিসিভি করে “তথ্য আপা” কার্যালয়ে শরিফুলের কোন কাজ আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। কাজের কথা শুনে কিছুক্ষণ পর গেট খুলে দেন তসলিমা। শরিফুল জিজ্ঞেস করেন অফিসে আর কোন ব্যাক্তি রয়েছেন কিনা ? এমন প্রশ্নে কেউ নেই বলে গেট আটকে দেন অভিযোগের অন্যতম চরিত্র তসলিমা আক্তার।
তবে শরিফুল নিশ্চিত হয় মহিলা অধিদপ্তরের এ কার্যালয়ে তসলিমা আক্তারের সঙ্গে ডাঃ ফারুক ও অবস্থান করেছেন। তিনি মুল ফটকের বাইরে থেকে ভিন্ন একটি তালা ঝুলিয়ে দিয়ে এলাকা বাসীকে ঘটনাটি জানালে স্থানীয়রা এসে তাদের দুজন (তসলিমা আক্তার ও ডাঃ ফারুক) কে অপ্রীতিকর অবস্থায় আটক করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় প্যানেল মেয়র মান্নান মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ডাঃ ফারুক কে উদ্ধার করেন।
তসলিমা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
তবে তসলিমা আক্তারের এমন অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন মহিলা অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) হাওলাদার মোঃ রকিবুল বারী।
শুধ্ইু তসলিমা আক্তার নন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে ন্যাশনাল সার্ভিসে কর্মরত ৮ জন মেয়েকে নানা অজুহাতে কার্যালয়ের ডরমিটরিতে নিয়ে যেতেন ডাঃ ফারুক। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাঢ়ীকান্দি গ্রামের আফরোজা আক্তার মিলিকে প্রশিক্ষণের নামে দীর্ঘ এক মাস তার আবাসিক কক্ষে অবস্থান করতে বাধ্য করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন তার কার্যালয় বরাবর বাড়িতে বসবাসকারী (নাম প্রকাশ করা উচিত নয়) গৃহবধুর সঙ্গেও তার অনৈতিক কর্মকান্ডের তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। গৃহবধূর সঙ্গে প্রতিনিধির আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়।
এ সংক্রান্ত তথ্য আমারদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
ডাঃ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন শিগ্রই সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর মহা পরিচালকের দপ্তরে পাঠানোর কথা জানালেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিডি) ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
অপরদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ডাঃ আব্দুল জব্বার শিকদার।
এসব বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসী উদ্দিন বলেন, এ ধরণের কালপ্রিট দেশের জন্য কোন কাজ করতে পারবেনা। বিষয়টি আমরা খুব সিরিয়াসলি দেখছি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Design BY Soft-Mack