বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সিঙ্গাপুরে মারা গেছেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সিঙ্গাপুরে মারা গেছেন

আমারদেশ প্রতিদিন ডেস্ক: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আর নেই।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

প্রবীণ এ রাজনীতিক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এর আগে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ছিলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

মওদুদ আহমেদের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমেদ চতুর্থ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাশ করে বৃটেনের লন্ডনস্থ লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। লন্ডনে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত করেন। এছাড়া তিনি ব্লান্ড ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যারিস্টার মওদুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন।

আইন অঙ্গনের এ মহাতারকা ১৯৭৭ থেকে ৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান শহীদ হন এবং এক বছরের ভেতর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমেদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এর এক বছর পর ১৯৮৬ সালে তাকে আবারও উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এরশাদ তাকে উপ-রাষ্ট্রপতি করেন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেয় এরশাদ সরকার। এরপর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালের আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মওদুদ আহমেদ।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মওদুদ আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞকে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।দায়িত্ব পেয়ে তিনি আইন মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক সংস্কার আনেন। প্রাজ্ঞ এ রাজনীতিক পাঁচবারই নোয়াখালী জেলার কম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে অত্যন্ত জননন্দিত এ নেতাকে পরাজিত দেখানো হয়।

মন্ত্রীত্ব ছাড়াও মওদুদ আহমেদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বিএনপি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন। তিনি দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Design BY Soft-Mack