রাজনীতিতে খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন: নজরুল ইসলাম খান

রাজনীতিতে খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন: নজরুল ইসলাম খান

আমারদেশ প্রতিদিন ডেস্ক: ভিন্নমতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য শিক্ষককে একটি নিবন্ধন লেখার অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর একজন শিক্ষকের কথা আপনারা শুনেছেন, যিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন। যার জন্য শুধু চাকরি যায়নি, তিনি এখন দেশে থাকতে পারেননি। একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসংখ্য মানুষ তার গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের কারণে এই সরকারের অনুগত প্রশাসনের ধারায় চাকরিচ্যুত কিংবা অন্যভাবে বিপদাপন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই ভিসি তো তিনি, যিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে সরকারের ভাষায় সন্ত্রাসী বলেছিলেন। তাদের কাছ থেকে সুবিচার আশা করার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, এদেশে দুর্নীতি-অনাচার আজ করুণ অবস্থাই চলে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে আমরা ডিজি হতে চাই না আমরা ডিজির ড্রাইভার হতে চাই। এই বিশ্বের তিনজন ধনী ড্রাইভার এর মধ্যে বাংলাদেশে একজন আছেন।

তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি নারী নির্যাতন যেভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে সেই নারী নির্যাতনের যে ভাইরাস সেটা থেকে বাঁচার জন্য এ সরকারের লোকজনের ৩ নাম্বার মাস্ক পরা উচিত।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া সম্পর্কেএকটি নাটক লিখেছেন। প্রচারিত হয়েছে একজন আওয়ামী লীগের এমপির মালিকানাধীন এক টিভি চ্যানেল থেকে। আমি শহীদ জিয়ার একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই আপনারা তো কিছুই না। আপনাদের কত বড় বড় নেতারা বছরের পর বছর শহীদ জিয়া সম্পর্কে, খালেদা জিয়া সম্পর্কে, তারেক রহমান সম্পর্কে কত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কি লাভ হয়েছে তাতে! জনগণ কি শহীদ জিয়াকে ভুলে গেছে। জনগণের যে শ্রদ্ধা তার প্রতি সেটাকে কি কমাতে পেরেছেন আপনারা। নাকি বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা কমেছে। যদি তাই হতো তাহলে আপনারা উঠতে-বসতে শয়নে স্বপনে তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতেন না। এটাকে তারেক রহমান ফোবিয়া বলতে পারেন বা খালেদা জিয়া ফোবিয়া বলতে পারেন। এরও চিকিৎসা দরকার মনে হয় আপনাদের। কিন্তু টিভিতে এসব নাটক প্রচার কোনো চিকিৎসা নয়। কারণ মানুষ এটাকে রাজনীতিতে খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে মনে করে। খারাপ দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করলেন, এ দৃষ্টান্ত যেন আল্লাহ না করুক ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয়। এভাবে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন করে আমরা রাজনীতি সম্পর্কে মানুষকে নিরুৎসাহিত করে দিচ্ছি, যেটা দেশের জন্য ক্ষতিকর গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা জানি আপনারা গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ নয়, কারণ আপনারা একবার গণতন্ত্রকে জবাই করেছেন এবং একবার যিনি গণতন্ত্রকে জবাই করেছেন তার প্রশংসা করেছেন। তৃতীয়বার আপনারা জরুরি অবস্থার মধ্যেও নির্বাচনে যেতে রাজি নিয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সেই দল যে দল একদলীয় স্বৈরশাসনের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি সেই দল, যে দলের নেত্রী নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। বিএনপি সেই দল, যে দল ২০০৭ সালে ঘোষণা করেছিল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করলে আমরা নির্বাচনে যাব না। গণতন্ত্রের জন্য আপনাদের (সরকার) কাছে আবেগ কম, আমরা জানি। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে গণতন্ত্রের জন্য আবেগ অনেক। গণতন্ত্র হলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল। আমরা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র অর্জন করেছি, আগামী দিনেও গণতন্ত্র রক্ষা করব। আমরা ঊন্নশত্তুরে এটার প্রমাণ দিয়েছি, একাত্তরে প্রমাণ দিয়েছি, নব্বইয়ে প্রমাণ দিয়েছে। প্রয়োজনে আগামী দিনেও দেব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020
Design BY Soft-Mack